হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামী আইনব্যবস্থা একটি সুসংহত ও পরস্পর-সম্পর্কিত কাঠামো। খণ্ডিত দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে এ ব্যবস্থার ভিত্তি হলো অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য। এখানে বিধানকে বেছে বেছে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ নেই। কারণ, প্রতিটি অধিকারের সঙ্গে একটি দায়িত্ব এবং প্রতিটি বিশেষ সুবিধার সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব জড়িত।
সমকালীন আইনবিষয়ক আলোচনায় একটি বড় সমস্যা হলো, ইসলামী আইন প্রণয়নের মৌলিক ভিত্তিকে উপেক্ষা করা। কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইসলামী শরিয়তের নির্ধারিত বিশেষ সুবিধা—যেমন মোহরানা, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতে অগ্রাধিকার—গ্রহণ করতে চান; কিন্তু একই ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচরণগত ও সামাজিক দায়িত্ব, যেমন হিজাব ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলা, গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি শুধু যৌক্তিকভাবেই অসংগত নয়, বরং ইসলামের সুরক্ষামূলক আইনব্যবস্থার কাঠামোকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
নারীর অবস্থান সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো মর্যাদা ও সুরক্ষাভিত্তিক। মোহরানা ও ভরণপোষণের মতো বিধান নারীর জন্য নির্ধারিত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। একইভাবে কিছু কঠিন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং সন্তানের হেফাজতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারও নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়েছে।
ইসলাম নারীর প্রতি কোমলতা ও মর্যাদার দৃষ্টিতে তাকিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে,—
المَرْأَةُ رَيْحَانَةٌ
অর্থাৎ, ‘নারী একটি সুগন্ধি ফুল।’
এর বিপরীতে বিভিন্ন সমাজব্যবস্থায় গৃহীত মডেল নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। পশ্চিমা সমাজে ‘পূর্ণ সমতা’-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে নারীর জন্য বিদ্যমান অনেক বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে এবং জীবিকা ও সামাজিক দায়িত্ব নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর সমানভাবে অর্পিত হয়েছে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো: যারা ইসলামী মূল্যবোধ ও আইনব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার দাবি করেন, তারা কি ইসলামের সুরক্ষামূলক কাঠামো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এর স্বাভাবিক পরিণতিগুলোও গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
অধিকার ও দায়িত্ব পাশাপাশি চলতে হবে
ন্যায়বিচারের দাবি হলো, অধিকার ও দায়িত্বকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি একটি আইনব্যবস্থার মূল্যবোধ ও কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে একই ব্যবস্থার বিশেষ সুবিধাগুলো দাবি করা একটি মৌলিক অসংগতির সৃষ্টি করে।
ইসলামী আইনব্যবস্থা একটি সামগ্রিক ও পরিবারকেন্দ্রিক ব্যবস্থা। এর সামাজিক মূল্যবোধ ও বিধিবিধানকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নারীর মানসিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ইসলামী বিধিবিধানের প্রতি দায়িত্বশীলতা শুধু একটি ধর্মীয় কর্তব্যই নয়; বরং নারীর মর্যাদা ও সামাজিক সুস্থতা রক্ষায় ইসলামের নির্ধারিত বিশেষ সুরক্ষা পাওয়ারও একটি পূর্বশর্ত।
তাই সামাজিক আলোচনায় ‘নির্বাচিতভাবে অধিকার দাবি’ করার পরিবর্তে ‘ইসলামী আইনব্যবস্থার সামগ্রিক যুক্তি ও কাঠামো’ তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে সবাই বুঝতে পারবে যে নিরাপত্তা ও মর্যাদা আল্লাহর বিধানের প্রতি সামগ্রিক আনুগত্যের ফল; ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কিছু বিধান গ্রহণ এবং কিছু বিধান বর্জনের ফল নয়।
নূরুলহুদা মাজেরচি
আপনার কমেন্ট